Posts Tagged ‘যৌন-সমস্যা’

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে |১০০| নিরাময়: যৌন-সমস্যা |

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে |১০০| নিরাময়: যৌন-সমস্যা |
– রণদীপম বসু

# (১০) যৌন-সমস্যা (Sexual disorderness)

নারী পুরুষের যৌন জীবন বা যৌন প্রণোদনা সম্পর্কিত উদ্ভুত জটিলতাগুলোকেই যৌন সমস্যা হিসেবে চিহ্ণিত করা যেতে পারে। এটা দু’ভাবে হতে পারে- দৈহিক ও মানসিক। সাধারণত যৌন অঙ্গে বা প্রজননতন্ত্রে সৃষ্ট রোগ বা ত্রুটিগুলোই দৈহিক সমস্যা হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়, যাকে চিকিৎসাশাস্ত্রে যৌন রোগ বলে। এই যৌন সমস্যা দেখা দেয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে প্রধান কারণগুলো হচ্ছে-

(০১) যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা বা অসাবধানতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব ও অনিয়ন্ত্রিত যৌন-জীবনযাত্রার কারণে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফ্যাঙ্গাস ইত্যাদি জীবাণুর মাধ্যমে যৌন অঙ্গে বা প্রজননতন্ত্রে রোগ সংক্রমন ঘটতে পারে, যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া, এইডস ইত্যাদি।
(০২) যৌন অঙ্গ বা প্রজননতন্ত্রে জন্মগত ত্রুটি থাকা।
(০৩) কোন কারণে পিটুইটারী, থাইরয়েড, অগ্ন্যাশয় বা যৌন গ্রন্থির কর্মক্ষমতা হ্রাস পেলে তা থেকে নিঃসৃত বিশেষ বিশেষ হরমোনের আপেক্ষিক ঘাটতি বা প্রাবল্যের কারণে সৃষ্ট হরমোনজনিত রোগ থেকে যৌন দুর্বলতা বা অক্ষমতা দেখা দিতে পারে।
(০৪) কোনভাবে সৃষ্ট স্নায়ুরোগ বা স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে যৌন প্রণোদনা হ্রাস পেতে পারে।
(০৫) এ ছাড়া অন্য কোন রোগভোগের কারণে দৈহিক বা মানসিক দৌর্বল্যহেতু সাময়িক বা স্থায়ী যৌন অক্ষমতা দেখা দিতে পারে।

রোগ নিরাময়ের উপায়:
যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন ও সাবধান হলে এবং নিয়ন্ত্রিত ও পরিচ্ছন্ন জীবন যাপনে অভ্যস্ত হলে জীবাণুঘটিত সংক্রামক যৌনরোগ থেকে দূরে থাকা যায়। একান্তই আক্রান্ত হলে যতদ্রুত সম্ভব অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এসব রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

জন্মগত ত্রুটির লক্ষণ প্রকাশ হওয়া মাত্র ডাক্তার দেখানো জরুরি। প্রাথমিক অবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ চিকিৎসা বা শৈল্যচিকিৎসার মাধ্যমে এই ত্রুটি সারানোর উপায় আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রয়েছে।

একইভাবে বিভিন্ন হরমোন গ্রন্থির ত্রুটি বা রোগ চিহ্ণিত করা গেলে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় হরমোন ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশান গ্রহণের মাধ্যমে আজকাল এই হরমোনজনিত সমস্যা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও কর্মঠ জীবন যাপন করা সম্ভব। যেমন থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের সমস্যায় উদ্ভুত বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক জটিলতার সাথে সৃষ্ট যৌন অক্ষমতা কেটে যায় প্রয়োজনীয় হরমোন চিকিৎসার মাধ্যমে। একইভাবে অগ্ন্যাশয় বা প্যাংক্রীয়াস গ্ল্যান্ডের ত্রুটিপূর্ণতায় সৃষ্ট ডায়াবেটিসের যথাযথ চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যৌনজীবনসহ স্বাভাবিক জীবন যাপনে কোন সমস্যা থাকে না।

স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে সৃষ্ট যৌন সমস্যার ক্ষেত্রে প্রথমেই স্নায়ুরোগের উৎসটাকে চিহ্ণিত করতে হয়। যে রোগ বা সমস্যার জন্যে সংশ্লিষ্ট স্নায়ুরোগের উৎপত্তি, তা দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেই স্নায়ুরোগের নিরাময়ের সাথে সাথে এ রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শারীরিক দুর্বলতাজনিত যৌন সমস্যা থেকে দূরে থাকা শুধু অভ্যাসের ব্যাপার।

যোগশাস্ত্রে সুস্থ সুন্দর ও আনন্দময় যৌনজীবন পালনের নিমিত্তে কিছু আসন ও মুদ্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রভাতে সহজ বস্তিক্রিয়া সেরে কিছুক্ষণ খালি হাতে ব্যায়াম ও সুর্য-নমস্কার ব্যায়াম করতে হবে। এরপর সামর্থ্য অনুযাযী কিছু যৌগিক ব্যায়াম অভ্যাস করতে হবে। যেমন- গোমুখাসন, ভদ্রাসন (বদ্ধ-কোণাসন), মহাবন্ধমুদ্রা, মহামুদ্রা, শক্তিচালনীমুদ্রা, সর্বাঙ্গাসনমৎস্যাসন ইত্যাদি যথানিয়মে নিয়মিত অভ্যাস করলে অচিরেই অস্বাভাবিক বীর্যক্ষয়ের হাত থেকে পরিত্রাণ পেয়ে সুস্থ দেহ ও মনে দুশ্চিন্তাহীন আনন্দময় যৌনজীবন কাটানো যায়।

অবিবাহিত কিশোর ও যুবকদের দেহে-মনে যখন তখন জেগে ওঠা কামভাব নিয়ন্ত্রণের উপায়ও যোগশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। যখনই কামভাব জাগবে তখনই তার গোমুখাসনে উপবেশন করলে কামভাব একেবারে দূর হয়ে যাবে। যোগশাস্ত্রানুযায়ী কামোত্তেজনা দমনের সর্বাপেক্ষা সহজ ও শ্রেষ্ঠ উপায় হলো- মহাবন্ধমুদ্রা অভ্যাসের পরই মহামুদ্রা অভ্যাস করা। যখনই মনে কামভাব জাগবে তখনই যদি গুহ্যদ্বার ও তলপেট আকর্ষণ ও বিকর্ষণ করে একবার মহাবন্ধমুদ্রা অভ্যাস করে তার পরই মহামুদ্রা অভ্যাস করা যায়, তাহলে কামরিপু সহজেই দমিত হয়।
[Images: from internet]

(চলবে…)

পর্ব: [৯৯][**][১০১]