Posts Tagged ‘দর্শন’

[Yoga] আপনি কেন ইয়োগা চর্চা করবেন…

————————–
[Yoga] আপনি কেন ইয়োগা চর্চা করবেন… (হাইপার-লিঙ্কড ইয়োগা-সমগ্র)
————————–
রণদীপম বসু
———–

জীবনের বহু বহু ব্যস্ততার মধ্যে আমাদের সময়ই হয় না নিজেকে একটু একান্ত করে দেখার। আমি কে, কী, কেন, কোথায়, কিভাবে, এ প্রশ্নগুলো করার। অথচ সামান্য এ ক’টা প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আমাদের সবটুকু রহস্য, ঠিকানা, পরিচয় এবং অস্তিত্বের অনিবার্য শর্তগুলোও। প্রশ্নের এই স্বচ্ছ আয়নায় নিয়ত বদলে যাওয়া জীবনের জলছবিগুলোই আমাদের প্রতিটা যাপন-মুহূর্ত, চলমান জীবন। অসংখ্য সমস্যার গেরোয় জট পাকিয়ে যাওয়া আমাদের জটিল জীবনযাত্রার জট খোলার চাবিটাও যে রয়ে গেছে সেখানেই, কেউ কেউ ঠিকই জানেন, আর অনেকেই তার খোঁজ রাখি না আমরা। এই প্রশ্নের সূত্র ধরেই এগুতে এগুতে অন্তর্ভেদী দার্শনিক ব্যক্তি যাঁরা, একসময় পৌঁছে যান ঠিকই জীবন ছাড়িয়ে মহাজীবনের বিপুল রহস্যের উজ্জ্বলতম দোরগোড়ায় এক অভূতপূর্ব বিস্ময় নিয়ে ! কিন্তু আমরা যারা অতি সাধারণ জন, খুব সাধারণ দেখার চোখ নিয়েও তারা কি পারি না এই অগুনতি যাপনের ভিড়ে শুধু একটিবার নিজের দিকে ফিরে তাকাতে ? যে আমাকে নিয়ে আমি নিত্যদিনের কর্মশালায় খাচ্ছি-দাচ্ছি-হাসছি-খেলছি-ঘুরছি আর মগ্ন হচ্ছি চিন্তায় বা দুঃশ্চিন্তায়, আমাদের সে ‘আমি’টা দেখতে কেমন, তা কি জানি আমরা ?

আপনি কি জানেন, ঠিক এ মুহূর্তে আপনি কেমন আছেন ? কিংবা কেমন দেখাচ্ছে আপনাকে ? আসুন না, নিজস্ব আয়নাটার সামনে খুব একান্তে দাঁড়াই একটু ! এবার নিজেকে উন্মোচিত করুন। কেমন দেখাচ্ছে আপনাকে ? ওই আয়নায় যেটা দেখছেন, সেটা আপনার দৈহিক অবয়ব। এই দেহই আমাদের ধারক, বাহক, এবং চালক। এই দেহকে ঘিরে, দেহের মাধ্যমে, এবং দেহের জন্যই আমাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড। মন বলে যে বিমূর্ত ধারণাপিণ্ড কল্পনা করি আমরা, তাও এই দেহনির্ভর। দেহ ছাড়া মন বিকৃত, অসম্পূর্ণ, অচল। দেহের বিনাশ ঘটলে মনের আর কোন অস্তিত্ব নেই, থাকে না। এ জন্যেই প্রাচীন যোগশাস্ত্রেও উক্ত হয়- ‘শরীরমাদ্যং খলু ধর্ম সাধনম’। আপনি যা কিছুই সাধন করতে চান না কেন, এই দেহ ছাড়া গতি নেই, উপায়ও নেই। দৃশ্যমান এই দেহের অস্তিত্ব মানেই বাস্তবে আপনার অস্তিত্ব। দেহ নেই, আপনি নেই। দেহ ছাড়া কেউ থাকে না। দেহত্যাগের পরেও আপনার যে নামটা থেকে যাবে কিছুকাল আপেক্ষিক সময় জুড়ে, তাও এই দেহেরই অবদান। এই দেহ ধারণ করে দেহের মাধ্যমে করে যাওয়া কৃতকর্মই তার আপেক্ষিক স্থায়িত্বের মাধ্যমে আপনার অবর্তমানে আপনার নামটাকে বাঁচিয়ে সম্ভাব্য আপেক্ষিক স্থায়িত্ব দিতে পারে। অতএব, ভালো করে দেখুন- যে দেহটা এ মুহূর্তে ধারণ করে আছেন আপনি।

হতে পারেন আপনি নারী বা পুরুষ, এবার বলুন তো, আয়নায় আপনার যে মানবদেহের অবয়ব দেখছেন, তা কি যেমনটা হওয়ার বা থাকার কথা তেমনই আছে ? চোখ, মুখ, নাক, কান, মুখমণ্ডল, গলা, কাঁধ, বাহু, হাত, বুক, পেট, পিঠ, কোমর, উরু, পা, আঙুল, নিতম্ব, জঙ্ঘা, জননেন্দ্রিয় তথা গোটা দেহকাঠামো সম্পূর্ণ, সুঠাম, সুস্থ, সবল, নিরোগ, অবিকৃত, নিখুঁত, স্বাভাবিক সুন্দর, সক্রিয় ও সাবলীল ? এবার অন্তর্চক্ষু উন্মিলিত করুন। কল্পনা করুন আপনার দেহের ভেতরে অবস্থিত আভ্যন্তরীন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ-তন্ত্রিগুলোর কথা। মস্তিষ্ক, স্নায়ুরজ্জু, বিবিধ হরমোন গ্রন্থি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, ধমনী, শিরা-উপশিরা, পাকস্থলি, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, মাংস-পেশী-অস্থি-মজ্জা-মেরুদণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, রক্তসংবহনতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, বিপাকক্রিয়াদিসহ ইত্যাদি সমূহ সিস্টেম বা প্রক্রিয়া কি সুস্থ, স্বাভাবিক, সক্রিয় ও সাবলীল আছে ? আরো আছে আপনার স্বপ্ন-কল্পনা-ভাবনার বিস্ময়কর বিমূর্ত সেই জগত, যেখানে গ্রন্থিত হয় সৃজনের অবিরল স্রোত। সেও কি শারীরিক ও মানসিক বাধামুক্ত সতেজ উদ্যমে গতিমান ? এসবের উত্তর যদি ‘হাঁ’ হয়, শুধু আমি নই, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে সবাই আপনাকে স্যলুট বা অভিবাদন জানাবে। উত্তর যদি হয় ‘না’, তাহলে দেরি নয়, এখনই ভাবুন, এক অসম্পূর্ণ অপভ্রংশ দৈহিক ও মানসিক অস্তিত্ব নিয়ে কতদূর যেতে পারেন আপনি ? আর আপনার এ চলার পথই বা কতোটা নিরাপদ, উদ্বেগহীন, ইচ্ছা-স্বাধীন ?

কথায় বলে- সুস্থ দেহ সুন্দর মন। কথাটা সর্বাংশেই সত্য। দৈহিক সুস্থতার কোন বিকল্প নেই। একটা নিরোগ সুস্থ-সুঠাম সতেজ কর্মঠ দেহের সাথে মানসিক ভ্রান্তিহীন চাপ নিরপেক্ষ সুডোল মনের রাখীবন্ধন ঘটলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সুন্দর পরিচ্ছন্ন জীবনের নিশ্চয়তা মেলে। কিন্তু আমাদের জীবন-বাস্তবতায় তা কতোটা অর্জন সম্ভব ?

দৈহিক সুস্থতার জন্যে প্রয়োজন সুষম খাবার গ্রহণের পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম। কিন্তু পরিশ্রম পরিকল্পিত না হলে দৈহিক সৌন্দর্য ও সুস্থতা নিশ্চিত হয় না। দেহের প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিমিত সঞ্চালন ও সক্রিয়তা না হলে দেহবিন্যাস সুষম ও সুগঠিত হতে পারে না। এজন্যেই দেহের জন্য দরকার হয়ে পড়ে পরিকল্পিত শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের। আমাদের এ নাগরিক সভ্যতায় মাঠ-ঘাট-খোলা জায়গা এখন যেভাবে ধীরে ধীরে কল্পজগতের বস্তু হয়ে ওঠছে তাতে করে শরীরচর্চার পরিসর ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। কিন্তু দেহের প্রতিটা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পেশী হাড় অস্থিসন্ধি ও রক্তসংবহনতন্ত্রের পরিমিত সঞ্চালন ও সক্রিয়তা রক্ষার অনন্য মাধ্যম হিসেবে ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়াম এখানে তুলনাহীন। যোগ-ব্যায়ামের বিভিন্ন আসনগুলো চর্চার জন্য আপনার ঘরের স্বল্পপরিসর মেঝে বা আপনার বিছানাটাই এক্ষেত্রে যথেষ্ট।

দেহের জ্বালানী হলো খাদ্য। তা পেলেই দেহ তার অভ্যন্তরস্থ বিশেষ বিশেষ দেহযন্ত্রের মাধ্যমে পরিবহন পরিবর্তন রূপান্তর করে নিজেকে সচল ও সবুজ সতেজ বৃক্ষের মতো পল্লবিত করে তোলে। কিন্তু খাওয়ার নামে প্রতিনিয়ত যা গিলছি আমরা তা কি আদৌ খাদ্য ? বিষাক্ত ভেজালের যুগে এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয় না আর। অতএব আমাদের দেহযন্ত্রের কারখানায় বিষ থেকে অমৃত সৃজনের প্রযুক্তি যতকাল রপ্ত না হবে, ততকাল ক্রমে ক্রমে নিঃসার হয়ে আসা দেহগহ্বরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে সচল ও সক্রিয় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা না নিয়ে কোন উপায় আছে কি ? তার শ্রেষ্ঠ উপায়ই হচ্ছে ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়াম। স্নায়ু গ্রন্থি রক্তনালী শিরা-উপশিরা ও দেহের অভ্যন্তরস্থ প্রতিটা দেহযন্ত্রের যথাযথ ব্যায়ামের মধ্য দিয়ে এগুলোকে পরিপূর্ণ সতেজ ও কার্যকর রাখতে ইয়োগাই অনন্য মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে যোগাসনগুলো ছাড়াও বিভিন্ন মুদ্রাগুলোর সমকক্ষ কোন পদ্ধতি একমাত্র ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়াম ছাড়া অন্য কোন ব্যায়ামে এখনো আবিষ্কৃত হয় নি। যেভাবে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের সক্রিয় সুস্থতা রক্ষার একমাত্র উপায়ই হচ্ছে ইয়োগার শ্বাস-ব্যায়াম প্রাণায়াম। এমনকি অত্যাবশ্যকীয় ইন্দ্রিয়গুলোর কার্য়কর সুরক্ষার জন্যেও ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়াম অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

খাবার গ্রহণ করলেই দেহের কাজ শেষ হয়ে যায় না। এই খাদ্য থেকে বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খাদ্য-উপাদান ও খাদ্যরস সংগ্রহ শেষে পরিত্যক্ত খাদ্যবর্জ্যগুলো মল-মূত্র ঘাম বা কফ হিসেবে শরীর থেকে বের করে দিতে হয়। এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হলেও শরীর অসুস্থ হয়ে পড়তে বাধ্য। এই প্রক্রিয়াটাকে সুস্থ সচল রাখতে অন্য সাধারণ ব্যায়ামে কোন উপায় না থাকলেও ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়ামে প্রয়োজনীয় ধৌতিগুলো খুবই কার্যকর উপায়।

জীবন যাপনের চলমান বাস্তবতায় যে সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি রাষ্ট্র পরিবেশ ও পরিস্থিতি উদ্ভুত স্ট্রেস বা মনো-দৈহিক চাপের মধ্য দিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত পার করতে হয় আমাদের, তা থেকে পরিত্রাণের যে ছটফটানি, এটা আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে প্রতিনিয়ত ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে যাচ্ছে। সেই দুঃসহ চাপের উৎস পরিবর্তনের সুযোগ বা সামর্থ হয়তো আমাদের নেই। কিন্তু সেই অসহনীয় চাপ সফলভাবে মোকাবেলা করতে না পারলে স্নায়ুরোগসহ যে মনো-দৈহিক সমস্যা বা রোগের বিস্তার ঘটে, প্রয়োজনীয় শিথিলায়ন ও প্রয়োজনীয় নিরাময়ের ব্যবস্থা না নিলে আমাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে যাবে। এই মনো-দৈহিক সমস্যা উত্তরণে অনন্যোপায় আমাদেরকে এ জন্যেও ইয়োগার আশ্রয়ই নিতে হবে।

প্রিয় পাঠক, চিন্তা বা ধারণা স্বচ্ছ না হলে আয়নায় নিজের অবয়ব দেখেও স্পষ্ট করে বুঝার উপায় নেই যে, বস্তুত যা হওয়ার কথা, নিজের সাথে তার কোথায় কেন কিভাবে কতটুকু তফাৎ বা পার্থক্য পরিদৃষ্ট হচ্ছে এবং কিভাবে তার উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। সেজন্যই আমাদের জানার আগ্রহটাকে উন্মুক্ত করে দিতে হবে। দেহ-মনের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে সুস্থ-সুন্দর জীবন-যাপনের এ যাবৎ শ্রেষ্ঠ উপায় যেহেতু ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়াম চর্চা, তাই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি জানার সাথে সাথে পরিপূর্ণভাবে অভ্যাসের সুবিধার্থে ইয়োগা দর্শনটাকেও জানা আবশ্যক বিবেচনা করি। আমি কেন ইয়োগা চর্চা করবো (Why do I practice Yoga) তা যেমন বুঝতে হবে, তেমনি জানতে হবে ইয়োগা কী বা এর ইতিহাস, আধুনিক ইয়োগার জনক হিসেবে চিহ্ণিত গুরু পতঞ্জলি কেন তাঁর অভ্রান্ত অষ্টাঙ্গযোগ মানব সভ্যতাকে উপহার দিয়েছেন এবং সম্পূর্ণ প্রায়োগিক ও মনো-দৈহিক স্বাস্থ্য দর্শন হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই এটাকে ধর্মীয় আধ্যাত্মিক দর্শন ভেবে ভুল করে ফেলেন কেন ? কিসের ভিত্তিতে আমরা ইয়োগা অনুশীলন করবো এবং অন্য ব্যায়ামের সাথে এর মৌলিক ভিন্নতা কোথায় তা যেমন জানতে হবে, তেমনি এর জ্ঞাতব্য বিষয়গুলোও মনোযোগ সহকারে ধারণ করে নিতে হবে। এসব বিষয় আগ্রহে বিশ্বাসে অনুধাবন করে নিজের প্রতি আস্থা ফিরে পেলেই কেবল নিজেকে ইয়োগা চর্চায় প্রস্তুত বলে গণ্য করতে হবে। এবং এ জন্য আপনাকে প্রতিদিন কেবল নিজের জন্য তিরিশটি মিনিট ব্যয় করতে প্রতিজ্ঞ হতে হবে।

ইয়োগা একটি পরিপূর্ণ দর্শন। অমিত ধৈর্য্য, প্রয়োজনীয অনুশীলন ও ধাপে ধাপে উত্তরণের মধ্য দিয়ে মনো-দৈহিক স্বাস্থ্য ও সামর্থ অর্জনের মাধ্যমে পরিপূর্ণ মানবসত্তার চরম উৎকর্ষতা অর্জনের উপায়ই এই দর্শনের অভীষ্টতা। ব্যক্তি তার চেষ্টা ও সামর্থ্য অনুযায়ী ফললাভ করে থাকেন। সাধক যোগী পুরুষ যেমন প্রয়োজনীয় তপস্যার মাধ্যমে নিজেকে আধ্যাত্মিক শিখরে আরোহন করতে পারেন, তেমনি ব্যক্তি-সাধারণের দৈহিক সুস্থতা ও সামর্থ অর্জনের জন্য এখানে উল্লেখ রয়েছে প্রচুর আসন, মুদ্রা, প্রাণায়ামধৌতি অভ্যাসের। যোগশাস্ত্রিরা এগুলোর প্রতিটার কার্য-কারণ, সতর্কতা ও ফললাভের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সুন্দরভাবে। এমনকি প্রচলিত রোগ-বালাই নিরাময় কিংবা তা থেকে মুক্ত থাকার উপায়ও বাৎলে দিয়েছেন। দেহগঠন, বয়স কিংবা রোগ বিবেচনায় নিজ প্রয়োজনে ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যচর্চা নির্বাচনের কৌশলও বর্ণিত হয়েছে এতে। একমাত্র ইয়োগা ছাড়া মানবদেহ ও মনের এমন পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য দর্শন আদৌ আর আছে কিনা জানা নেই।

যদি আমরা আমাদের অবিকল্প এই দেহটিকে সকল কর্মকাণ্ডের কার্য ও কারণ বলে বিশ্বাস করতে সক্ষম হই, তাকে সুস্থ সবল সক্রিয় ও সুন্দর রাখতে উদ্ভুত প্রশ্নটি ‘আপনি কেন ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়াম চর্চা করবেন’ এভাবে না হয়ে হওয়া উচিৎ- আপনি কেন ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়াম চর্চা করবেন না !

(C) কপিরাইট:
। ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত ও ব্যবহৃত যাবতীয় ছবির নিজ নিজ উৎসের স্বীকৃত স্বত্ব কৃতজ্ঞতার সাথে বহাল রেখে- এই হাইপার-লিঙ্কড পাণ্ডুলিপির সর্বস্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত ।
Advertisements

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে | ০৪ | আধ্যাত্ম দর্শন থেকে প্রায়োগিক দর্শন |

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে | ০৪ | আধ্যাত্ম দর্শন থেকে প্রায়োগিক দর্শন |
– রণদীপম বসু

হিন্দুশাস্ত্রীয় নীতিগ্রন্থ ‘শ্রীমদ্ভাগবত গীতা’র জ্ঞানযোগে উল্লেখ রয়েছে, ‘ঈশ্বর ভক্তের চোখে সাকার, জ্ঞানীর চোখে নিরাকার।’ একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে যে এই ইয়োগা বা পতঞ্জলির যোগশাস্ত্রে পরমচেতনাময় ঈশ্বরের যে রূপকল্প আঁকা হয়েছে তা নিরাকার এবং মহাবিশ্বপ্রকৃতির সাথে মিশে থাকা এক পরমচেতনাগত সত্ত্বায়। এতেই বুঝা যায় এই যোগসাধনা মুক্তচিন্তান্বেষী জ্ঞানযোগেরই অংশ। এ ঈশ্বর কথা বলতে জানা আশির্বাদ বা অভিশাপ প্রদানোদ্যোগী কোন আকারসম্পন্ন সুদর্শন বা ভয়ঙ্করদেহী ঈশ্বর নন। এবং আরেকটু খেয়াল করলেই বুঝা যাবে যে এখানে ঈশ্বরসংশ্লিষ্ট কোন অলৌকিকতার নামগন্ধও নেই। যা আছে তা হলো মানবিক চেতনারই অনন্ত বিস্তারকৃত এক মহাচৈতন্যময় সত্ত্বার প্রকাশ, যা মহাবিশ্বপ্রকৃতির রূপক ধরেই এসেছে। অর্থাৎ এ দর্শনের মূল ভিত্তিটাই হচ্ছে এই জগতকেন্দ্রিকতা এবং আরেকটু সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে জগৎরূপী এই জীবদেহকেন্দ্রিকতা। আর এখানেই রয়ে গেছে একটি সুপ্রাচীন আধ্যাত্মদর্শনের ব্যবহারিক গুরুত্ব বিবেচনায় ধীরে ধীরে দেশ কাল পাত্র সংস্কৃতি নিরপেক্ষ একটি প্রায়োগিক দর্শন হিসেবে ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠার মূল চাবিকাঠি।
.
যে কোন আধ্যাত্মবাদের পেছনে ক্রিয়াশীল থাকে কোনো না কোনো ধর্মের সক্রিয় উপস্থিতি। আর যেকোন ধর্মেরই মূল ভিত্তি হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস। এই বিশ্বাসকে এড়িয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মের কথিত উৎস বা নাভিতে পৌঁছানো কখনোই কি সম্ভব ? পালনীয় উপাচার বা রীতিনীতিগুলোর সাথে অনিবার্যভাবেই যে সব প্রচলিত মিথনির্ভরতার অলৌকিক আবশ্যকতা জড়িয়ে থাকে, তা সে সাকার বা নিরাকার উপাস্য যে ধর্মই হোক, স্রষ্টা নামের যে পরম সত্ত্বাকে পরিশেষে স্বীকার করে নেয়া হয়, বায়বীয় হলেও তাঁর একটা স্বকল্পিত রূপ মনের মধ্যে তৈরি হয়েই যায়। সাকার উপাস্যদের প্রসঙ্গ এখানে বলা বাহুল্য। বুঝার সুবিধার্থে উদাহরণ হিসেবে যদি নিরাকার উপাস্য একজন ইসলাম ধর্মাবলম্বীর প্রসঙ্গ আনি, তাহলে কি বিষয়টা আরেকটু পরিষ্কার হতে পারে ? এ ধর্মবিশ্বাস মতে এই সৃষ্টিজগতের যিনি স্রষ্টা, তাঁর কোন আকার নেই। অর্থাৎ তিনি নিরাকার। সমস্ত সৃষ্টির পেছনের এই উৎস হচ্ছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কোন কিছু সংঘটিত হওয়া এ ধর্মবিশ্বাসমতে কিছুতেই সম্ভব নয়। এবং স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উপাসনা করার যেসব বিধি-বিধান নির্ধারিত, তার মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে নামাজ অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বলেই বিবেচনা করা হয়। নির্ধারিত ও অলঙ্ঘনীয় প্রক্রিয়া হিসেবে একজন পালনকারীর নামাজ আদায়কালীন শারীরিক ও মানসিক স্থিরতা প্রাপ্তির যে চর্চাটা নিয়মিত চর্চিত হয়, এর যে একটা জাগতিক উপকারিতা রয়েছে তা একজন যুক্তিবাদী অবিশ্বাসীর চোখেও অস্বীকার করা বোধ করি ঠিক হবে না। কিন্তু এ দৃশ্যমান চর্চাটা কিন্তু নামাজের মূল বিষয় নয়। এই নামাজ প্রক্রিয়ার অন্তর্গত লক্ষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে একজন আল্লাহর অলৌকিক অস্তিত্বের কাছে হৃদয়মন সপে দিয়ে পুরোপুরি আত্মসমর্পণের বিষয়টাই এখানেই মৌল। একনিষ্ঠ একজন নামাজির পক্ষে সুনির্দিষ্ট সুরা পাঠ বাধ্যতামূলক এবং এর বাইরে যাবার কোন উপায় তাঁর নেই। অনবধানতার মধ্যেও যদি কোন ধরনের বিচ্যুতি ঘটে, তাহলেও তাকে প্রকৃতই নামাজ আদায় হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। প্রকৃতপক্ষেই এখানে নিজস্ব কোন স্বাধীনতা ভোগ করার প্রশ্নই উঠে না।
.
এবারে ভিন্ন কোন ধর্মমতাবলম্বী কিন্তু উদারনৈতিক ব্যক্তিটি যদি নামাজের এই স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়াটায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর উপকারার্থে অনুরূপ শারীরিক কসরত করতে উদ্যোগী হন, তাতে কি তাঁর কোন অভীষ্ট ফল লাভ সম্ভব ? কিছুতেই সম্ভব নয় বলেই মনে হয়। কেননা নামাজ যে কারণে নামাজ হয়ে উঠে তার পেছনে রয়েছে কল্পিতভাবে একজন অবিকল্প আল্লাহকে বাধ্যগতভাবে শুধু স্বীকার করেই নয়, পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে তাঁর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণের ইচ্ছাশক্তির একাগ্রতার চর্চা। এর সাথে মনের যে যোগ রয়েছে, একজন অবিশ্বাসীর কাছে এ মনোযোগ থাকার প্রশ্নই আসে না। এবং তা অসম্ভবও। একইভাবে খ্রীষ্টধর্মে বিশ্বাসীদের ঈশ্বরপুত্র যীশুখ্রীষ্ট বা কুমারী মাতা মেরীর অলৌকিকতায় মিথলজিক্যাল বিশ্বাস বা অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও যার যার স্রষ্টার উপাসনার স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াগুলোর পেছনে সংশ্লিষ্ট ধর্মের প্রাসঙ্গিক বিশ্বাসগুলোই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অতএব দেহ-মনের সুস্থতার প্রায়োগিক চর্চা হিসেবে নির্দিষ্ট উপাচারগুলোর নিজস্ব বিশ্বাসের গণ্ডির বাইরে আদৌ কোন ব্যবহারযোগ্যতা আছে বলে মনে হয় না। ফলে বিশ্বাসী অবিশ্বাসী নির্বিশেষে অভিন্ন প্রয়োগধর্মিতা এখানে অসম্ভব।
.
আবার কোনরূপ অলৌকিকতায় অবিশ্বাসী বৌদ্ধ দর্শনের মূল সুর হচ্ছে অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্মা। এ দর্শন অনুযায়ী পৃথিবীর সবকিছুই অনিত্য, দুঃখই সত্য, আর চিরস্থায়ী আত্মা বলে স্থির কিছু নেই। অদৃশ্য কোন কিছুর প্রতি, অলৌকিক কিছুতে তথাগত বুদ্ধ বিশ্বাস স্থাপন করতে বলেন নি। তাঁর চিন্তার কেন্দ্র বিন্দুতে ঈশ্বর ছিল না, ছিল মানুষ ও মানুষের সমাজ। তবু এই ধর্মমতাবলম্বীদের উপাসনা পদ্ধতিতে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধই যখন উপাস্য দেবতা হিসেবে পূজিত হন, তখন তাও ব্যবহারযোগ্যতায় নিজস্ব বিশ্বাসের গন্ডি অতিক্রম করার উপায় থাকে না। ফলে ইহলৌকিক মানবসত্ত্বার দেহমনের সুস্থতার একান্ত চর্চামাধ্যম হিসেবে তথাকথিত অনুশাসনমূলক ধর্মীয় দর্শনগুলোর নিজস্ব বিশ্বাসের বাইরে যখন নমনীয় হয়ে ধর্ম বর্ণ সংস্কৃতি নির্বিশেষে সার্বিকভাবে কোন ব্যবহারযোগ্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না, তখনই বিস্ময়কর ব্যতিক্রম হিসেবে পতঞ্জলির অষ্টাঙ্গ যোগচর্চার আধ্যাত্ম দর্শনে সেই নমনীয় ও উদারনৈতিক সর্বব্যাপকতা অনায়াসেই খুঁজে পাওয়া যায়। প্রাচীন সনাতন হিন্দু সংস্কৃতির উত্তরাধিকার ধারণ করেও পতঞ্জলির এই ইয়োগা দর্শনে যে নমনীয় আধ্যাত্মিক রূপান্তরযোগ্যতা রয়েছে, তাতে করে যে কোন ধর্মের যে কোন সংস্কৃতির বা প্রকৃতই একজন অবিশ্বাসীরও নিজস্ব ধর্মমত, বিশ্বাস বা অবিশ্বাস নিজস্ব চর্চায় ধারণ করেও এই ইয়োগা দর্শনের সাথে মিশে যেতে কোনরূপ স্ববিরোধী সমস্যায় পড়তে হয় না। আর এখানেই দেহমন সুস্থ রাখার সাধনপ্রক্রিয়া হিসেবে এই ইয়োগা শাস্ত্রের অনন্যতা।
.
পতঞ্জলির যোগশাস্ত্র কোন ধর্মমত নয়। সুস্থ দেহ মনের একাগ্রতা প্রত্যাশী চর্চা উপযোগী একটা ইহলৌকিক আধ্যাত্মদর্শন কেবল। এর প্রাথমিক ধাপের পাঁচটি অঙ্গের মরাল কোড বা আচরণবিধি এবং শুদ্ধাচার ও মনোবীক্ষণের সাথে কোন ধর্মমত বা দর্শনের কোথাও কোন বিরোধ নেই। বরং মৌল সহযোগী। পরবর্তী ধাপের অঙ্গগুলোতে যে আধ্যাত্মিক বীক্ষণ রয়েছে তাতে অনায়াসে নিজ নিজ বিশ্বাস বা উপাস্য দেবতা বা স্রষ্টার কল্পরূপ প্রতিস্থাপন করার উন্মুক্ত স্বাধীনতা এই দর্শনকে যে আপেক্ষিক যোগ্যতা দান করেছে, তাতেই তা সর্বক্ষেত্রে অনায়াস গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আর এর মনোদৈহিক স্বাস্থ্য রক্ষার অভূতপূর্ব ক্ষমতা এটাকে সর্বময় ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এবং আরো বিস্ময়ের ব্যাপার এটাই যে, হাজার বছর পেরিয়ে এসেও সমকালীন বিজ্ঞানচেতনায় এর মনোদৈহিক চর্চার ব্যাখ্যা কী অভাবনীয় ইতিবাচক মর্যাদায় সংরক্ষিত হয়ে উঠেছে ! আর এভাবেই একটা আধ্যাত্ম দর্শন চমৎকারভাবে প্রায়োগিক যোগ্যতা অর্জন করে অত্যাবশ্যক গুরুত্ব নিয়ে দেশ কাল সময়ের গণ্ডি ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র !
এখানে একটা বিষয় আমাদের ভুলে যাওয়া চলে না যে, কোন আধ্যাত্ম দর্শন যখনই প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক দর্শন হিসেবে সংস্কৃতি ও বিশ্বাস নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্যতা পেতে শুরু করে, সাথে সাথে খুব যৌক্তিকভাবেই এর অন্তর্গত বিষয় ও লক্ষ্যেও একটা পরিবর্তনের ধারা অব্যহত প্রক্রিয়ায় চলতে থাকে। এটাকেই যোজন-বিয়োজনের খাপখাওয়ানো পদ্ধতি বলে কিনা কে জানে। তবে মূল দর্শনের রিচ্যুয়াল ও স্পিরিচ্যুয়াল টার্গেটের সাথে পরিবর্তিত দর্শনের প্রয়োজনমুখীনতা আর এক বা অভিন্ন থাকে না। যা পতঞ্জলির ইয়োগা শাস্ত্রের বর্তমান ব্যবহারিক দর্শনে কিছুটা লক্ষ্য করা গেলেও এর মৌলত্বে তেমন কোন পরিবর্তন চোখে পড়ে না। উদ্দেশ্য নির্ধারণে যেমন, পদ্ধতিগত চর্চার ক্ষেত্রেও তাই।

একজন নির্দিষ্ট ধর্মবিশ্বাসীর ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব স্পিরিচ্যুয়াল টার্গেট বা আধ্যাত্মিক লক্ষ্য তাঁর বিশ্বাসের চিহ্ণিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিহিত থাকে। ওখান থেকে টলে যাওয়া মানে তাঁর ধর্মবিশ্বাসেই পরিবর্তন ঘটে যাওয়া। এক্ষেত্রে ইয়োগা তাঁকে সে বিশ্বাস থেকে টলায় না একটুও। বরং ইয়োগা তাঁকে সহায়তা করে দেহমনের পরিপূর্ণ সুস্থতা ও শুদ্ধতা আনয়ন করে তাঁকে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আরো বেশি একাগ্র ও সমর্থ করে তোলায়। পাশাপাশি একজন অবিশ্বাসীর কাছেও ইয়োগার গুরুত্ব একটুও হ্রাস পায় না তো বটেই, বরং মুক্তচিন্তার উদারমনস্কতার মধ্যে তাঁকে আরো বেশি সংবেদনশীল সচেতন করে তুলে মহাবিশ্বপ্রকৃতির ব্যাপ্তিকে তাঁর চিন্তনসত্ত্বায় অধিকতর অর্থবহ করে তোলে। আর একান্তই সাধারণ একজন ব্যক্তির কাছেও ইয়োগা উপস্থিত হয়ে যায় দৈনন্দিনতার বৈচিত্র্যহীন গড্ডালিকায় দুশ্চিন্তাময় অস্থিরতার মধ্যেও এমন সুস্থ শরীর ও মনের এক অভূতপূর্ব আস্বাদন নিয়ে, যা তাঁকে সত্যিই এক অসাধারণ উপলব্ধির জলে স্নাত করতে প্রস্তুত। একটা চমৎকার সুস্থ দেহের চাইতে বড় কোন সম্পদ এই লৌকিক বিশ্বে আর কী থাকতে পারে !
.
আর এভাবে চলতে চলতে ইয়োগা তার গভীর আধ্যাত্মিক গুঢ়তা ধারণ করেও দেহমন চর্চার এমন এক অতিগুরুত্বপূর্ণ ইহলৌকিক চেহারা পেয়ে যায় যে, তাকে যে কেউ যে কোনভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে কোন বেগ পেতে হয় না। যাঁরা গভীর স্পিরিচ্যুয়াল চর্চায় নিজেকে নিমগ্ন করবেন তাঁদের জন্য ইয়োগা বিশ্ব উন্মুক্ত তো আছেই। আর গড়পড়তা সাধারণ দেহধারী যাঁরা তাঁর বোঝা হয়ে উঠা বা উঠতে উদ্যত শরীরটাকে বাগে এনে সাধ্যের মধ্যে সম্ভাবনাগুলোকে চেখে দেখার গুঢ় ইচ্ছা পোষণ করেন, এই প্রতিকূল সময়ে তাঁদের জন্যও ইয়োগা চর্চা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক বলেই মনে হয়। এইসব প্রাসঙ্গিকতার মধ্যেই সমকালীন বিজ্ঞানদৃষ্টিও যখন এই ব্যবহারিক ইয়োগার গুরুত্বকে একটুও খাটো না করে আবশ্যকতার ব্যাখ্যায় সমৃদ্ধ করে তোলে, আমাদের নির্ভর করার জায়গাটা তখন যে সত্যিই আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠে তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে !

[Image:from internet]

(চলবে…)

পর্ব: [০৩][**][০৫]

[
sachalayatan]
[
somewherein]