[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে |৪৫| আসন: ময়ূরাসন |

[Yoga] ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে |৪৫| আসন: ময়ূরাসন |
– রণদীপম বসু

# ময়ূরাসন (Mayurasana):
আসন অবস্থায় দেহটি অনেকটা ময়ূরের মতো দেখায় বলে আসনটির নাম ময়ূরাসন।

পদ্ধতি:
পায়ের পাতা মুড়ে হাঁটুর উপর বসুন বা হাঁটু গেড়ে বজ্রাসনে বসুন। এবার হাতের তালু দুটো হাঁটু থেকে প্রায় এক হাত দূরে এমনভাবে মেঝেতে রাখুন যেন হাতের কব্জি দুটো একসঙ্গে এবং আঙুলগুলো পেছন ফিরে হাঁটুর দিকে থাকে। এখন দু’হাতের কনুই ভেঙে নাভির দুপাশে লাগিয়ে গভীরভাবে দম নিয়ে তলপেট শক্ত করে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ুন এবং পা দুটো সোজা করুন।
এবার হাতের তালুর উপর ভর রেখে পা জোড়া ও সোজা অবস্থায় উপরে তুলুন। দু’হাতের উপর শরীরটা মাটির অনেকটা সমান্তরালে ভেসে থাকবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ১০সেঃ থেকে ২০সেঃ এ অবস্থায় থাকুন।
এরপর পা নামিয়ে হাত-পা আলগা করে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে এভাবে ২/৩ বার আসনটি অভ্যাস করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।

@ এক হস্ত ময়ূরাসন (Eka Hastha Mayurasana):

পদ্ধতি:
ময়ূরাসনের অনুরূপ প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসে ডান হাতের তালু হাঁটু থেকে প্রায় এক হাত দূরে মেঝেতে রাখুন এবং একই ভঙ্গিতে দেহের ভার এক হাতের ওপর রেখে শরীরটাকে মেঝের সমান্তরালে ভাসিয়ে রাখুন। অন্যহাত শরীরের সাথে বাঁ জানুতে সেটে থাকবে।
শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ১০সেঃ থেকে ২০সেঃ এ অবস্থায় থেকে পা নামিয়ে হাত-পা আলগা করে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে হাত বদল করে বাঁ হাতের উপর দেহের ভার রেখে একইভাবে আসনটি আবার করুন। এভাবে ২/৩ বার আসনটি অভ্যাস করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
একইভাবে পদ্মাসন অবস্থায়ও আসনটি করা যায়। তখন এই আসনকে এক হস্ত পদ্ম-ময়ূরাসন বলা হয়।

@ বদ্ধ ময়ূরাসন (Baddha Mayurasana):

পদ্ধতি:
আসনটিকে পদ্ম-ময়ূরাসনও (Padma Mayurasana) বলা হয়ে থাকে। প্রথমে মুক্ত-পদ্মাসনে বসুন। হাতের তালু সামনে প্রায় একহাত দূরে মেঝেতে রাখুন যেন হাতের আঙুল পেছনদিকে মেলে থাকে। এবার হাতের কনুই ময়ূরাসনের মতো নাভির কাছে লাগিয়ে পা বদ্ধ অবস্থায় উপরে তুলুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ১০সেঃ থেকে ২০সেঃ এ অবস্থায় থাকুন।
এরপর পা নামিয়ে হাত-পা আলগা করে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে এভাবে ২/৩ বার আসনটি অভ্যাস করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।

ময়ূরাসনের উপকারিতা:
এ আসন অভ্যাসে মলদ্বারের পেশী সঙ্কুচিত হয় বলে তলপেটে আভ্যন্তরীণ চাপ পড়ে, ফলে তলপেটে প্রধান রক্তবাহী শিরা আংশিকভাবে রুদ্ধ হওয়ায় পাকস্থলী, যকৃত, প্লীহা এবং প্যানক্রিয়াস ও এ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলোতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। ফলে এগুলো সবল ও অধিক কর্মক্ষম হওয়ায় পেটের কোন রোগ সহজে হয় না। এতে পরিপাকশক্তি প্রচণ্ড বেড়ে যায়, এ্যাড্রিনাল গ্রন্থি অধিক কর্মক্ষম হওয়ায় হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয় এবং রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা ও রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ আসনে হাতের শক্তি প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পায়।

নিষেধ:
ময়ূরাসনে পেট ও বুকে প্রচণ্ড চাপ পড়ে বলে যাদের কোনরকম হৃদরোগ আছে বা যাদের প্লীহা, যকৃৎ রোগা বা অস্বাভাবিক বড়, রোগ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আসনটি করা উচিৎ নয়।
[Images: from internet]

(চলবে…)

পর্ব: [৪৪][**][৪৬]
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: